আব্দুল মোতালেব একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারী চাকুরীজিবী। অবসর নেয়ার পর থেকে
পরিবারে তাকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। তিনি নাকি ইদানিং পরিবারের প্রতিটি ব্যাপারে শুধু ভূল খুঁজে বের করেন। বাড়ির কাজের ছেলে রহিম দুইবার চাকরি ছাড়ার হুমকি দিয়েছিলো। কারন মোতালেব সাহেব ওর বাজার করা নিয়ে একদিন দু-চারটা কড়া কথা বলেছিলো। তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুন একবার রাগ করে বাপের বাড়ি চলে গিয়েছিল। কারণ মোতালেব সাহেব স্ত্রীকে পরিবারের খরচ বেড়ে যাওয়ায় এক দীর্ঘ বক্তৃতা দিয়েছিল।
কিছুদিন থেকে তিনি তার একমাত্র মেয়ে তন্নীর উপর ভীষণ ক্ষিপ্ত। ভার্সিটি পড়া এই মেয়েটার চলাফেরা তার একদম পছন্দ হচ্ছে না। এছাড়া ইদানিং তিনি লক্ষ করছেন প্রতিদিন একটা বাইক এসে তার বাসার সামনে এসে দাড়ায় এবং তার বিশ বছর বয়সী সুন্দরী কন্যাকে নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়। মনস্থির করলেন মেয়েকে সামনে পেলে কষে এক থাপ্পর দিয়ে বুঝিয়ে দিবেন এসব নোংরামী তিনি একদম সহ্য করতে পারেন না। এসব ভাবতে ভাবতে তিনি যখন বেলকনিতে পায়চারী করছিলেন ঠিক তখনি একটা বাইক এসে তার বাড়ির সামনে দাঁড়ায়। এই দৃশ্য দেখে তিনি প্রচন্ড ক্ষেপে যান এবং তার শখের রাইফেলটা হাতে নিয়ে দ্রুত নেমে আসেন।
নীচ নেমে রাইফেলটা বাইকে বসা যুবকটির দিকে তাক করে কড়া ভাষায় জিজ্ঞেস করেন –
– কি চাই এখানে ?
-আমি “ওঠাও রাইডে” কাজ করি । তন্নী নামের এক ম্যাম আমাকে এই ঠিকানায় আসতে
বলেছে।” ভয় পেয়ে যুবকটি বললো।
*ওঠাও রাইড আবার কি?” মোতালেব সাহেব জানতে চাইলেন ।
-“এটা এক ধরনের রাইড শেয়ারিং ব্যবসা ।যাদের বাইক আছে তারা তাদের বাইক দিয়ে রাইড শেয়ার করে কিছু টাকা আয় করতে পারে”। যুবকটি বললো।
মোতালেব সাহেব আর কিছু বললেন না । আজকাল অবশ্য কাগজে- টিভিতে কিসব যেন শুনছেন ওঠাও,কুবার প্রভৃতি নামে বিভিন্ন ব্যবসা চালু হয়েছে।
মোতালেব সাহেব আর ভাবতে পারলেন না। এখন দুনিয়ায় কত কিছু শুরু হয়েছে। তিনি আগের যুগের মানুষ ।এসব তেমন বোঝেন না। তাছাড়া তার মেয়ে তন্নী খুবই রাগী মেয়ে।আড়ালে- আবডালে তিনি যতই চেঁচামেচি করুক না কেন মেয়ের সামনে তিনি একদম ভীতুর ডিম। তাই মেয়ের ভয়ে যুবকটিকে আর তেমন কিছু বললেন না।
ঠিক এমন সময় তন্নী গেটের কাছে চলে এলো । সে বাপের দিকে না তাকিয়ে বাইকে উঠে
পড়লো। মোতালেব সাহেব ভয়াত দৃষ্টিতে দেখতে লাগলেন তার মেয়ে ওঠাও রাইডে চড়ে
দ্রুতবেগে চলে যাচ্ছে।





